আজকে আমাদের আলোচনার বিষয়-বাগর্থিক পরিবহন তত্ত্ব
বাগর্থিক পরিবহন তত্ত্ব
সত্যশর্তের ধারণাকে কাজে লাগিয়ে কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আর্থার দান্তো (১৯৬৯) বাগর্থিক পরিবহন তত্ত্ব প্রাঠন করেন । দান্তোর মতে বাক্য হলো এক ধরনের যান যা অর্থকে বহন করে । এই অর্থ বর্ণনামূলক অর্থ । কোন বাক্যের বর্ননামূলক অর্থ একটি নিয়মের মাধ্যমে প্রদত্ত হয় যে নিয়মে ঐ বাক্যটি সত্য হওয়ার শতাবলী বিবৃত হয় ।

এখানে সত্য বলতে বুঝতে হবে ধনাত্মক বাগর্থিক মূল্য । কোন ধারণা ধনাত্মক বাগর্থিক মূল্য তখনই অর্জন করে যখন তা বাস্তব ঘটনার সাথে সংস্থাপিত হয়। বাগার্থিক পরিবহনের বর্ণনামূলক অর্থকে নিম্নোক্ত নিয়মে পরিশৃঙ্খলিত করা যায় :
R: v (+) if and only if //
এখানে,
R = rule বা নিয়ম
v = semantical vehicle বা বাগর্থিক পরিবহন
+) = positive semantical vehicle বা ধনাত্মক বাগার্থিক মূল্য k = conditions বা শর্তাবলী অর্থাৎ সত্যশত
কাজেই নিয়মটি হলো যদি / k/ বা সত্যশর্ত বজায় থাকে তবে একটি বাক্য বা তৎসংশ্লিষ্ট ধারণা v ধনাত্মক বাগার্থিক মূল্য (+) অর্জন করে অর্থাৎ সত্য হয় । অন্যদিকে, যদি সত্যশর্ত বজায় না থাকে তবে তা ঋণাত্মক বাগৰ্থিক মূল্য (-) অর্জন করে অর্থাৎ মিথ্যা হয়।

দান্তোর মতে, কোন বাক্যকে জানা মানে বাক্যটি সত্য হওয়ার শর্তাবলীকে জানা বা জাগতিক ঘটনার সাথে নিজের জ্ঞানকে সংযুক্ত করা। কিন্তু বাক্যটিকে বোঝার জন্য তা প্রয়োজনীয় নয়। এভাবে পাস্তো জানা ও বোঝার মধ্যে পার্থক্য করেন । যেমন আকাশে আজ চাঁদ উঠেছে এ বাক্যটি বোঝার জন্য আকাশে সত্যি সত্যি চাঁদ আছে কিনা তার জানার দরকার নেই।

কিন্তু যদি কাউকে বাক্যটি জানতে হয় তবে তাকে আকাশ পর্যবেক্ষণ করার প্রয়োজন পড়বে । এখানে জানা মানে সত্যতা জানা। তাকে বাক্যটির সত্যতা জানতে হলে তাকিয়ে দেখতে হবে আকাশে চাঁদ আছে কিনা। যদি চাঁদ থাকে তবে বাক্যটি সত্য এবং যদি না থাকে তবে বাক্যটি মিথ্যা।
এভাবেই দাস্তো জানা ও বোঝার মধ্যে পার্থক্য করেন । দান্তোর পরিবহন তত্ত্বটি কোন সুসংহত বা সুবিকশিত তত্ত্ব নয় । সত্যশর্তমূলক বাগর্থবিদ্যার সমস্ত দোষত্রুটি এর উপর বর্তায় । তত্ত্বটিতে কিছু প্রতীক ব্যবহারের অভিনবত্ব থাকলেও এটি নতুন কোন সত্যকে তুলে ধরতে পারে না বা অর্থ ব্যাখ্যায় নতুন কোন দিক নির্দেশনা দিতে পারে না। এটি তাই একটি দুর্বল বাগৰ্থিক তত্ত্ব ।
